শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ

সংসদে উঠছে না গণভোটসহ ১৬ অধ্যাদেশ: বাতিল হচ্ছে ১২ এপ্রিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, সংসদীয় ডেস্ক ॥
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উত্থাপন না হওয়ায় গণভোট ও গুম প্রতিরোধসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা তামাদি হয়ে যাচ্ছে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশ পাস করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসব অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হচ্ছে না। ফলে আগামী ১২ এপ্রিলের পর এগুলোর কার্যকারিতা হারাবে।

গতকাল স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে বিশেষ কমিটির রিপোর্ট উত্থাপন করেন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

কেন বাতিল হচ্ছে এই অধ্যাদেশগুলো?
বিশেষ কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, এই ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তীতে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল হিসেবে আনা হবে। তবে ১২ এপ্রিলের মধ্যে এগুলো পাস না হলে বর্তমানে এগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো পরবর্তীতে নতুন করে বিল না আনলে এগুলোর আইনি ভিত্তি থাকবে না।

বাতিলের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য অধ্যাদেশ:

গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫

দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫

তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬

আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট সংক্রান্ত সংশোধনীসহ আরও বেশ কিছু আর্থিক ও প্রশাসনিক অধ্যাদেশ।

জামায়াতের ‘নোট অব ডিসেন্ট’
বাতিলের তালিকায় থাকা ১৬টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১২টির বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন বিশেষ কমিটিতে থাকা জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য—অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও গাজী নজরুল ইসলাম। এছাড়া স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত আরও ৪টি অধ্যাদেশের বিষয়েও তাঁরা আপত্তি জানিয়েছেন।

বিশেষ কমিটির অন্যান্য সুপারিশ
বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে বিস্তারিত রূপরেখা দিয়েছে:

১. পাস করার সুপারিশ: ৯৮টি অধ্যাদেশ বর্তমান আকারেই বিল হিসেবে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে।

২. সংশোধিত আকারে: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন, পুলিশ কমিশন, শ্রম আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে পাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

৩. তৎক্ষণাৎ বিল: সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগসহ ৪টি অধ্যাদেশ দ্রুত বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির এই সিদ্ধান্তের ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই আইনি বিষয়গুলো নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকারের মতো সংবেদনশীল অধ্যাদেশগুলো বিলুপ্ত হওয়ার পর নতুন করে কবে নাগাদ শক্তিশালী আইন হিসেবে ফিরে আসবে, সেদিকেই নজর জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মহলের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com